শিক্ষা মানুষের মুক্তি ও অগ্রগতির মূল ভিত্তি। একটি জাতিকে এগিয়ে নিতে হলে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলা অপরিহার্য। এই বিশ্বাস থেকেই শহীদ কর্নেল কুদরত ইলাহী পাবলিক স্কুল প্রতিষ্ঠার পর থেকে দিনাজপুর জেলায় মানসম্মত শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সার্বিক পরিচালনা ও তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই বিদ্যালয় সুশৃঙ্খল পরিবেশ, দক্ষ শিক্ষক মণ্ডলী এবং আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎকে সুদৃঢ় করতে বদ্ধ পরিকর।
আমরা বিশ্বাস করি-শুধু পাঠ্যপুস্তক-ভিত্তিক শিক্ষা নয়, শরীরচর্চা ও খেলাধুলা, চরিত্র গঠন, শৃঙ্খলা, দেশ প্রেম এবং মানবিক মূল্য বোধ ও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ; আর এই বিদ্যালয় সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে।
দিনাজপুর জেলার শিক্ষার মান আরও উন্নত করতে আমরা বিভিন শিক্ষাগত উন্নয়ন কার্যক্রম চালু করেছি এবং ভবিষ্যতে তা আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের সাফল্য ও বিকাশ নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়ের প্রতিটি পদক্ষেপই আমাদের অঙ্গীকারকে আরও শক্তিশালী করছে।
আমি আশাবাদী, শহীদ কর্নেল কুদরত ইলাহী পাবলিক স্কুল আগামী দিনে দিনাজপুরসহ দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে একটি উৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা একটি জ্ঞান ভিত্তিক, সৃজনশীল ও মূল্যবোধ সম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তুলতে সক্ষম হবো-ইনশাআল্লাহ।
কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সাল হাসান খান
বিজিবিএম, পিবিজিএম, পিএসসি
উপ-মহাপরিচালক
সেক্টর কমান্ডার
সেক্টর সদর দপ্তর দিনাজপুর
শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। কাজেই সবার জন্য শিক্ষা অর্জন করা মানুষের মৌলিক অধিকার। এ অধিকারকে যথাযথভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিশ্বের অনেক দেশ আজ উন্নত দেশ হিসেবে উন্নতির চরম শিখরে আরোহণ করেছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সাধ্যমত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যুগের সাথে সংগতিপূর্ণ বিকাশের জন্য আমরা প্রত্যেকেই ভাবি নিজ নিজ সন্তানদের নিয়ে। প্রকৃতির সন্তান মানব শিশুকে পরিশুদ্ধ হতে হয়, পরিপুর্ণ হতে হয় স্বীয় সাধনায়। এ ক্ষেত্রে শিক্ষাই হলো আমাদের মূলমন্ত্র। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি শিক্ষার মৌলিক উদ্দেশ্য হলো আচরণের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন। আর এ লক্ষ্যে তাদেরকে সৃজনশীল, স্বাধীন, সক্রিয় এবং দায়িত্বশীল সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। এ জন্য প্রয়োজন যোগ্য শিক্ষকমন্ডলী এবং উপযুক্ত শিক্ষাদান পদ্ধতির সমন্বয়ে একটি শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ। আমি বিনয়ের সাথে দাবী করি শহীদ কর্ণেল কুদরত ইলাহী পাবলিক স্কুলের এসব কিছুর সমন্বয় ঘটানো সম্ভব হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মজ্জাগত প্রতিভা সহজে বিকাশের জন্য প্রতিষ্ঠানটিতে রয়েছে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কম্পিউটার শিক্ষা, সাংস্কৃতিক, আনুষ্ঠানিক, খেলাধুলাসহ নানাবিধ শিক্ষা এবং কম্পিউটার শিক্ষা ও কম্পিউটার প্রশিক্ষন ব্যাবস্থা খুবই শক্তিশালী যা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।
শহীদ কর্ণেল কুদরত ইলাহী পাবলিক স্কুলের ওয়েবসাইটি খুলে সরকারের ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং সরকারের ভিশন ২০২১ এর সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছে। শহীদ কর্ণেল কুদরত ইলাহী পাবলিক স্কুলের ওয়েবসাইটিতে যে তথ্য, উপাত্ত থাকবে তা অবাধ তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করবে এবং তা সবার কাছে সহজ লভ্য হবে। এটা নিশ্চিত যে, আমাদেরকে ইনফরমেশন হাইওয়েতে উঠতে গেলে, চলতে গেলে তথ্য প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করণের মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারী দপ্তর, পরিদপ্তর ও অধিদপ্তরের কার্যক্রমে সচ্ছতা, গতিশীলতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে এবং সেবার মান উন্নত হবে ও দুর্নীতি সহনীয় মাত্রায় নেমে আসবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। পরিশেষে, শহীদ কর্ণেল কুদরত ইলাহী পাবলিক স্কুলের ওয়েবসাইটির সফলতা ও সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হোক এই কামনা করেই শেষ করছি।
মোছাঃ মাসুমা বেগম
প্রধান শিক্ষক
শহীদ কর্ণেল কুদরত ইলাহী পাবলিক স্কুল
শহীদ কর্ণেল কুদরত ইলাহী পাবলিক স্কুল হল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যা কুঠিবাড়ী দিনাজপুর সদরে অবস্থিত। দিনাজপুর বিজিবিতে কর্মরত স্ব-পরিবারে বসবাসরত সৈনিকদের এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার জনসাধারনের সন্তানাদির ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২০১২ সালে ০১ জানুয়ারি “কুঠিবাড়ী বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল” নামে স্কুলটি স্থাপিত হয়। পরবর্তীতে ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ পিলখানার ট্রাজেডিতে শহীদ তৎকালীন সেক্টর কমান্ডার, দিনাজপুর কর্নেল কুদরত ইলাহী রহমান শফিক, এনডিসি, পিএসসি মহোদয়ের নামে “শহীদ কর্ণেল কুদরত ইলাহী পাবলিক স্কুল” নামকরণ করা হয়।